HomeUncategorizedরাষ্ট্রীয়ভাবে এমএজি ওসমানীর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পালনসহ ১১ দফা দাবি বাস্তবাযন করতে...

রাষ্ট্রীয়ভাবে এমএজি ওসমানীর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পালনসহ ১১ দফা দাবি বাস্তবাযন করতে হবে

রুহুল ইসলাম মিঠু: সাধীনতার ৫৪ বছরে ও এমএজি ওসমানীকে মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য স্বাধীনতা পদক দেয়া হয়নি ।

আগামী ১লা সেপ্টেম্বর একাওরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর জেনারেল (অব:) এম এ জি ওসমানীর ১০৮ তম জন্মবার্ষিকী। এ বীর মুক্তিযোদ্ধা্র জন্মবার্ষিকী পালন উপলক্ষ্যে “ বঙ্গবীর ওসমানী স্মৃতি সংসদ, সিলেট” বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তাঁর  রূহের মাগফিরাত কামনা করে   ওইদিন কোরআন তেলাওয়াত, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল আয়োজনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে । বঙ্গবীর এমএজি ওসমানীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে অনুষ্ঠানের আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে ।
সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ আহমদ বহলুল জানান, এমএজি ওসমানীকে যথাযোগ্য সম্মান দিয়ে দেশ ও জাতির জন্য তাঁর অবদান স্বীকার করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কারণে  মরণোত্তর “ স্বাধীনতা পদক”  প্রদানসহ ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানানো হয় ।
মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর ওসমানীর ভাগ্যে আজো জোটেনি স্বাধীনতা পদক। এমন দূঃখ জনক বিষয় তোলে ধরেছেন “বঙ্গবীর ওসমানী স্মৃতি সংসদ সিলেটের সভাপতি সৈয়দ আহমদ বহলুল। তিনি বলেন মহান এই বীর সেনানীকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দেশ ও জাতির জন্য বঙ্গবীর ওসমানী নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেছেন। সামাজিক ক্ষেত্রেও তাঁর অনেক অবদান রয়েছে। জীবন বাজি রেখে দেশ, জাতি ও দেশের মানুষের জন্য যুদ্ধ করেছেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিস্বরূপ স্বাধীনতা পদক দেয়া হয়নি তাকে।
সংগঠনটি ১১ দফা দাবী বাস্তবায়নের লক্ষে প্রধানমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীসহ ১৯ জন সংসদ সদস্যের নিকট আবেদন করেছে। সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ আহমদ বহলুল বলেন, সম্প্রতি ডা: জাফর উল্লাহকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক দেয়া হয়েছে। তাই মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য বঙ্গবীর এম, এ, জি ওসমানীকেও মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক দিতে সরকারের প্রতি আহবান জানানো হয়। ।
এমএজি ওসমানী জীবন বাজি রেখে ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের জন্য বাংলা রণ ও নৃত্য সঙ্গীত নির্ধারণ করেন। যার জন্য তাকে পাকিস্তানিদের রোষানলে পড়তে হয়েছে। ১৯৫১ সনে বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত “চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট” নামের সঙ্গে বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানীর নাম সংযোজন করে “চট্টগ্রাম বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানী ক্যান্টনমেন্ট” নামকরণ করতে হবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট সেনানিবাসসমূহের যে কোন একটিতে সি.ইন.সি বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানী আর্মি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করতে হবে। সিলেটস্থ ওসমানী জাদুঘরের মূল স্থাপনা ঠিক রেখে আধুনিক জাদুঘর মিলনায়তন কমপ্লেক্স নির্মাণ করতে হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধে অবিস্মরণীয় অবদানের জন্য দেশবাসী কর্তৃক প্রদত্ত উপাধি ‘বঙ্গবীর একান্তই ওসমানীর, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের সিদ্দিকী (বাঘা কাদের সিদ্দিকী) বীর উত্তম’ নামের পূর্বে ব্যবহৃত ‘বঙ্গবীর’ উপাধি বাতিল করতে হবে। ২৫ মার্চ ১৯৭১ পাক হানাদার বাহিনীর বাঙালিদের উপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের মোকাবেলায় প্রতিরোধ যুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী সামরিক কর্মকর্তাদের অনুষ্ঠিত ‘৪ঠা এপ্রিল ১৯৭১’ বৈঠকে কর্নেল পরবর্তীতে বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানীর সর্বাধিনায়কত্বে মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ৪ঠা এপ্রিল ১৯৭১-কে স্মরণীয় করে রাখতে সরকারি ভাবে তেলিয়াপাড়া দিবস ঘোষণা করতে হবে। বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানীর কর্মময় জীবনী স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা,বঙ্গবীর ওসমানীর লেখা ঐতিহাসিক পাণ্ডুলিপি উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় খরচে প্রকাশের ব্যবস্থা করা, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সি.ইন.সি (সর্বাধিনায়ক), বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানীর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা, বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানীর নামে প্রতিষ্ঠিত সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালু করা, এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল , ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তন ঢাকা, ওসমানী উদ্যান ঢাকা, ওসমানী পৌর স্টেডিয়াম চাষাড়া, নারায়ণগঞ্জসমূহ স্থাপনার আধুনিকায়নসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিষ্ঠিত স্থাপনাসমূহের রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ সংরক্ষণ, উন্নয়ন করা , স্থাপনার পূর্বে “বঙ্গবীর” শব্দ সংযোজন করা করা , ঢাকাস্থ ওসমানী উদ্যানকে অবৈধ দখলমুক্ত করে আধুনিক উদ্যানে রূপান্তরিতসহ ওসমানী মিলনায়তনকে আধুনিক করা, ওসমানী নগর উপজেলাস্থ দয়ামীরে প্রতিষ্ঠিত মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানী গণগ্রন্থাগার, স্মৃতি জাদুঘর ও দাতব্য চিকিৎসালয়টি অবিলম্বে চালু করা ,বঙ্গবীর ওসমানীর জন্মস্থান সুনামগঞ্জে বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানী স্মরণে মিলনায়তন নির্মাণ করা ,
বঙ্গবীর ওসমানীকে মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য স্বাধীনতা পদক দেয়ার আহবান জানানো হয়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য