Homeসমগ্র বাংলাদেশকোরআন হাদীসের আলোকে আশুরার গুরুত্ব ও তাৎপর্য :

কোরআন হাদীসের আলোকে আশুরার গুরুত্ব ও তাৎপর্য :

শায়খ ক্বারী মোহাম্মদ শরীফ আহমদ সিনিয়র শিক্ষক আল মাদিনা মডেল মাদ্রাসা, সিলেট।

মুহাররম ইসলামী হিজরি সনের প্রথম মাস। এটি ইসলামের চারটি সম্মানিত মাসের অন্যতম। এ মাসের ১০ তারিখকে বলা হয় আশুরা। আশুরা মুসলিম উম্মাহর জন্য শিক্ষা, ত্যাগ, কৃতজ্ঞতা, ধৈর্য ও আল্লাহর আনুগত্যের এক অনন্য স্মারক।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
“নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট মাসের সংখ্যা বারোটি… এর মধ্যে চারটি সম্মানিত মাস।” — কোরআন, সূরা আত-তাওবা, ৯:৩৬
মুহাররম সেই সম্মানিত মাসগুলোর একটি। তাই এ মাসে নেক আমলের গুরুত্ব ও মর্যাদা আরও বেশি।
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
“রমজানের পর সর্বোত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মুহাররমের রোজা।” — সহিহ মুসলিম
আশুরার রোজার ফজিলত
আশুরার রোজা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, আশুরার দিনের রোজা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা হবে।” — সহিহ মুসলিম
তবে ইহুদিদের থেকে ভিন্নতা বজায় রাখতে রাসুলুল্লাহ (সা.) পরবর্তী বছর ৯ ও ১০ মুহাররম একসঙ্গে রোজা রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তাই অধিকাংশ আলেমের মতে ৯ ও ১০ অথবা ১০ ও ১১ মুহাররম রোজা রাখা উত্তম।
আশুরা: কৃতজ্ঞতার দিন
হাদিসে এসেছে, মুসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীদের ফিরআউন-এর অত্যাচার থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন আল্লাহ তাআলা আশুরার দিন। এ উপলক্ষে মুসা (আ.) রোজা রাখতেন। পরে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “মুসা (আ.)-এর প্রতি আমাদের অধিকার বেশি।” অতঃপর তিনি নিজেও রোজা রাখেন এবং সাহাবিদেরও রোজা রাখার নির্দেশ দেন। (সহিহ আল-বুখারী ও সহিহ মুসলিম)
কারবালার শিক্ষা
আশুরার দিনই হুসাইন ইবনে আলী (রা.) কারবালার প্রান্তরে শাহাদাত বরণ করেন। তাঁর শাহাদাত সত্য, ন্যায়, ঈমান ও জুলুমের বিরুদ্ধে অবিচল থাকার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তবে ইসলামে শোক প্রকাশের নামে আত্মনির্যাতন, শরীর আঘাত করা বা শরিয়তবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডের অনুমোদন নেই।
আমাদের করণীয়
৯ ও ১০ অথবা ১০ ও ১১ মুহাররম রোজা রাখা।
বেশি বেশি তাওবা, ইস্তিগফার ও নফল ইবাদত করা।
কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া ও দান-সদকায় মনোযোগী হওয়া।
কারবালার শিক্ষা থেকে সত্য, ন্যায় ও ধৈর্যের আদর্শ গ্রহণ করা।
বিদআত, কুসংস্কার ও শরিয়তবিরোধী কাজ থেকে বিরত থাকা।
পরিশেষে বলতে চাই
আশুরা কেবল একটি ঐতিহাসিক দিবস নয়; এটি ঈমান, ত্যাগ, কৃতজ্ঞতা ও তাকওয়ার শিক্ষা গ্রহণের দিন। এ দিনের প্রকৃত মর্যাদা অর্জন হবে যখন আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রোজা রাখব, নেক আমলে আত্মনিয়োগ করব এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সত্য ও ন্যায়ের পথে অটল থাকব।
আল্লাহ তা’আলা আমাদের সবাইকে আশুরার শিক্ষা হৃদয়ে ধারণ করে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমীন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য