HomeUncategorizedকোরআন: বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুজিযা

কোরআন: বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুজিযা

শায়েখ ক্বারী মোহাম্মদ শরীফ আহমদসিনিয়র শিক্ষক আল মাদিনা মডেল মাদ্রাসা, সিলেট।

মহান আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে মানবজাতির হিদায়াতের জন্য অসংখ্য নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন। প্রত্যেক নবীকেই আল্লাহ তাঁদের নবুওয়তের সত্যতার প্রমাণ হিসেবে বিশেষ মুজিযা দান করেছেন। হযরত মূসা (আ.)-এর লাঠি সাপে পরিণত হওয়া, হযরত ঈসা (আ.)-এর আল্লাহর ইচ্ছায় মৃতকে জীবিত করা বা জন্মান্ধকে সুস্থ করে তোলা—এসব ছিল তাঁদের যুগের মানুষের জন্য দৃশ্যমান মুজিযা। কিন্তু বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও চিরস্থায়ী মুজিযা হলো পবিত্র আল-কুরআন।

কুরআন কোনো মানুষের রচিত গ্রন্থ নয়; এটি মহান আল্লাহর অবিকৃত বাণী, যা ফেরেশতা জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ওপর প্রায় ২৩ বছরে অবতীর্ণ হয়েছে। পৃথিবীতে বহু ধর্মগ্রন্থ নানা সময়ে বিকৃতির শিকার হলেও আল্লাহ নিজেই কুরআনের সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন,
“নিশ্চয়ই আমিই এ উপদেশ (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক।”
(সূরা আল-হিজর: ৯)
পবিত্র কুরআনের অন্যতম অলৌকিক দিক হলো এর ভাষা, সাহিত্যিক সৌন্দর্য ও অতুলনীয় বাগ্মিতা। আরবের শ্রেষ্ঠ কবি, সাহিত্যিক ও বাগ্মীরাও কুরআনের মতো একটি সূরাও রচনা করতে পারেননি। আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন,
“আর যদি তোমরা আমার বান্দার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছি সে সম্পর্কে সন্দেহে থাক, তবে এর অনুরূপ একটি সূরা নিয়ে এসো।”
(সূরা আল-বাকারা: ২৩)
আবার অন্য আয়াতে ঘোষণা করা হয়েছে,
“বলুন, যদি সমগ্র মানব ও জিন জাতি একত্রিত হয়ে এ কুরআনের অনুরূপ কিছু নিয়ে আসতে চায়, তবে তারা কখনোই এর অনুরূপ আনতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সহযোগিতা করে।”
(সূরা আল-ইসরা: ৮৮)
চৌদ্দ শতাধিক বছর পেরিয়ে গেলেও এই চ্যালেঞ্জের জবাব আজও কেউ দিতে পারেনি। এটিই কুরআনের জীবন্ত মুজিযা।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, “প্রত্যেক নবীকেই এমন মুজিযা দেওয়া হয়েছে, যার কারণে মানুষ তাঁর প্রতি ঈমান এনেছে। আর আমাকে যে মুজিযা দেওয়া হয়েছে, তা হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ওহী (আল-কুরআন)। তাই আমি আশা করি, কিয়ামতের দিন আমার অনুসারীর সংখ্যা সর্বাধিক হবে।” (সহীহ আল-বুখারী)
কুরআন কেবল তিলাওয়াতের গ্রন্থ নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। এতে রয়েছে আকীদা, ইবাদত, নৈতিকতা, পারিবারিক জীবন, অর্থনীতি, বিচারব্যবস্থা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং মানবকল্যাণের সর্বাঙ্গীন নির্দেশনা। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—সবক্ষেত্রেই কুরআনের শিক্ষা প্রাসঙ্গিক।
আজকের পৃথিবীতে অশান্তি, নৈতিক অবক্ষয়, দুর্নীতি, অন্যায় ও মূল্যবোধের সংকট ক্রমেই বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে কুরআনের শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজকে সত্য, ন্যায়, ইনসাফ, মানবতা এবং আল্লাহভীতির পথে পরিচালিত করতে পারে। তাই কুরআনকে শুধু ঘরে সাজিয়ে রাখা বা সুন্দর কণ্ঠে তিলাওয়াত করাই যথেষ্ট নয়; এর অর্থ বুঝে জীবন পরিচালনা করাই একজন মুমিনের প্রকৃত দায়িত্ব।
আমাদের পরিবারে শিশুদের শুদ্ধ কুরআন শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে, তরুণদের কুরআনের আলোকে চরিত্র গঠনে উদ্বুদ্ধ করতে হবে এবং সমাজে কুরআনের মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে। ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে কুরআনের শিক্ষা বাস্তবায়িত হলে শান্তি, ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
আসুন, আমরা পবিত্র কুরআনকে বিশ্বনবী (ﷺ)-এর চিরন্তন মুজিযা হিসেবে হৃদয়ে ধারণ করি, নিয়মিত তিলাওয়াত করি, এর অর্থ অনুধাবন করি এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এর নির্দেশনা অনুসরণ করে দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতা অর্জনের চেষ্টা করি।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য