Homeসমগ্র বাংলাদেশসিলেটে হানিট্র্যাপ চক্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

সিলেটে হানিট্র্যাপ চক্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

তরুণ ও প্রবাসীদের টার্গেট করে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৪
সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকায় একটি কথিত ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের তৎপরতা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণ ও প্রবাসীদের সঙ্গে কৌশলে সম্পর্ক স্থাপন করে পরে তাদের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগ করছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চক্রের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টার্গেট করা ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করে বিভিন্ন হোটেল, মেস কিংবা বাসায় নিয়ে যান। পরে সেখানে আপত্তিকর পরিস্থিতির ভিডিও ধারণ করে তা প্রকাশের ভয় দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে প্রবাসীরাও এ ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ইতোমধ্যে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তানজিলা আক্তার ওরফে রাবেয়া বেগম তানহা ও মো. আব্দুল জলিলসহ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, প্রতারণার পর তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের পর সম্পর্ক তৈরি এবং পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগীদের কয়েকজনের দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে স্থানীয়ভাবে কেউ কেউ সহযোগিতা বা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে থাকতে পারেন। তবে এ অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যও জানা প্রয়োজন।
এদিকে, একজন ভুক্তভোগী নগরীর একটি হোটেলকে কেন্দ্র করে কথিত চক্রের তৎপরতার বিষয়ে কিছু ছবি ও তথ্য দিয়েছেন। সেখানে একজন নারীর নাম ও পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য এবং পুলিশের তদন্তের তথ্য নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তার পরিচয় প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকা হচ্ছে।
কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
ভুক্তভোগীরা বলছেন, এ ধরনের চক্রের কর্মকাণ্ড বন্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল ও আপত্তিকর ভিডিও ধারণের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কেউ প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করছে কি না, সেটিও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সচেতন মহলের মতে, তরুণ ও প্রবাসীদের এ ধরনের প্রতারণা থেকে রক্ষা করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। কেউ ব্ল্যাকমেইলের শিকার হলে ভয় না পেয়ে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও তদন্তের ফলাফল প্রকাশের পরই বিষয়টি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য