HomeUncategorizedহযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের পবিত্রতা রক্ষা ও আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে সর্বস্তরের জনগণের...

হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের পবিত্রতা রক্ষা ও আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে সর্বস্তরের জনগণের পক্ষ থেকে কয়েকটি প্রস্তাব :

হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের পবিত্রতা রক্ষা ও আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে সর্বস্তরের জনগণের পক্ষ থেকে কয়েকটি প্রস্তাব :

সিলেট অঞ্চলের মুসলমানদের কাছে মহান সাধক হযরত শাহজালাল মুজাররদে ইয়ামানী (রহ.) চিরস্মরণীয় ও শ্রদ্ধেয়। তিনি ৩৬০ জন সঙ্গীসহ সিলেটে এসে ইসলামের দাওয়াত, তাওহীদের বাণী এবং নৈতিক সমাজ প্রতিষ্ঠার আহ্বান পৌঁছে দিয়েছিলেন।
বর্তমানে তাঁর মাজারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সমাজে আলোচনা রয়েছে। এ ধরনের কার্যক্রম প্রতিরোধ, মাজারের পবিত্র পরিবেশ বজায় রাখা এবং জনগণের দান-অনুদানের স্বচ্ছ ও জনকল্যাণমূলক ব্যবহার নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
মাজারের আয় সংরক্ষণ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে প্রস্তাব:

১. ডেগ, দানবাক্স, গিলাফের ওপর প্রদত্ত দান, গম্বুজের নিচে সংগৃহীত অনুদান এবং অফিসের রসিদের মাধ্যমে সংগৃহীত সব অর্থ প্রকাশ্যে হিসাব করে ব্যাংক হিসাবে জমা নিশ্চিত করা।
২. মান্নতের গরু, ছাগল, মোরগসহ অন্যান্য দানের পৃথক হিসাব সংরক্ষণ এবং দায়িত্বশীল কর্মকর্তার মাধ্যমে তদারকি করা।
৩. সৎ, দক্ষ ও আমানতদার জনবল নিয়োগ করা।
৪. প্রতি সপ্তাহে প্রকাশ্যে আয় গণনা ও হিসাব প্রকাশ করা।
৫. প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে রসিদ, লেজার বুক ও আধুনিক হিসাব সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা।
মাজারের আয় জনকল্যাণে ব্যয়ের প্রস্তাব
১. মাজারে অবস্থানকারী অসহায় মানুষের জন্য প্রতিদিন দুই বেলা খাবারের ব্যবস্থা।
২. আধুনিক মেহমানখানা, উন্নত বাথরুম ও ওজুখানা নির্মাণ।
৩. হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর জীবন ও কর্মভিত্তিক জাদুঘর ও পাঠাগার প্রতিষ্ঠা।
৪. তাঁর ইসালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে নিয়মিত কুরআন খতমের ব্যবস্থা।
৫. দুর্যোগকালে মানবিক সহায়তায় অর্থ ব্যয়।
৬. এতিমখানা ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানে বিশেষ অনুদান প্রদান।
৭. জামেয়া কাসিমুল উলুম দরগাহ মাদরাসার উন্নয়নে সহযোগিতা।
৮. পরিকল্পিত মাজার কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ।
৯. অধিকসংখ্যক মুসল্লির জন্য বৃহৎ মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ।

👉 ব্যবস্থাপনা কমিটিতে যাদের রাখতে হবে:

১. জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি দরগাহ মসজিদের ইমাম এবং সিলেটের আলেম-উলামাদের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা।
২. শরিয়াহভিত্তিক পরামর্শের জন্য অন্তত তিনজন যোগ্য মুফতিকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা।

👉 মাজারের পবিত্রতা রক্ষায় প্রস্তাব:
১. মাজার প্রাঙ্গণে ইসলামবিরোধী ও আইনবিরোধী সব ধরনের কার্যক্রম কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা।
২. মাদকসেবন ও অন্যান্য অসামাজিক কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা।
৩. জনশৃঙ্খলা ও ধর্মীয় পরিবেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা।
৪. নারী-পুরুষের চলাচলে শালীনতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।
৫. শরিয়াহসম্মত জিয়ারতের পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট আলেমদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রচলিত রীতিনীতির পর্যালোচনা করা।

👉 মাজার কর্তৃপক্ষের করণীয়:
১. মাজারে দর্শনার্থীদের জন্য জিয়ারতের শিষ্টাচার ও নিয়মাবলি সংবলিত সাইনবোর্ড স্থাপন।
২. ওরস ও অন্যান্য সময়ে মাইকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রচার।
৩. নারী দর্শনার্থীদের জন্য শালীন ও নিরাপদ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
৪. নিয়মিত জিয়ারতের আদব ও ইসলামী শিক্ষাবিষয়ক প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা।
৫. জুমার পূর্বে নৈতিকতা, আকিদা ও সামাজিক সচেতনতা বিষয়ে আলোচনা আয়োজন।
৬. প্রতি বৃহস্পতিবার ও ওরস উপলক্ষে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর জীবন, অবদান এবং ইসলামের শিক্ষা বিষয়ে আলোচনা ও দোয়ার আয়োজন।

আমাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনগণের আস্থা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং ধর্মীয় পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর স্মৃতিবিজড়িত এই ঐতিহাসিক স্থানের পবিত্রতা রক্ষা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনকল্যাণে কার্যকর ভূমিকা পালনের তাওফিক দান করুন। আমীন।

শায়খ ক্বারী মোহাম্মদ শরীফ আহমদ
সিনিয়র শিক্ষক আল মাদিনা মডেল মাদ্রাসা, সিলেট
পরিচালক মারকাজুল কোরআন গ্লোবাল ইনস্টিটিউট।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সবচেয়ে জনপ্রিয়

সাম্প্রতিক মন্তব্য