নিজস্ব প্রতিবেদক:দেশজুড়ে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার কর্মীরা। মানবাধিকার তথ্য পর্যবেক্ষণ সোসাইটি (মাতপস)-এর সিলেট বিভাগীয় সহ-সভাপতি শায়খ ক্বারী মোহাম্মদ শরীফ আহমদ এক বিবৃতিতে বলেছেন, শিশুদের ওপর পাশবিক নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, বরং পুরো মানবতার ওপর আঘাত।
তিনি বলেন, আছিয়া, ফাহিমা ও রামিসাদের মতো নিষ্পাপ শিশুদের নির্মমভাবে জীবন কেড়ে নেওয়ার ঘটনা জাতির বিবেককে নাড়া দিয়েছে। একটি শিশু যখন ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়, তখন শুধু একটি প্রাণ হারায় না; হারিয়ে যায় একটি ভবিষ্যৎ, একটি স্বপ্ন এবং একটি জাতির সম্ভাবনা।
বিবৃতিতে তিনি প্রশ্ন রাখেন, “আর কত রামিসা? আর কত মায়ের বুক খালি হবে? আর কত নিষ্পাপ শিশুর রক্ত ঝরলে সমাজ জেগে উঠবে?”
তিনি পবিত্র আল-কুরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, মহান আল্লাহ তাআলা ন্যায়বিচার, সদাচার ও জুলুম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, যেখানে বিচার বিলম্বিত হয়, সেখানে অন্যায় শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
এছাড়া তিনি কুরআনের আরেকটি আয়াত তুলে ধরে বলেন, “যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে একজন মানুষকে হত্যা করল, সে যেন সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করল।” তার ভাষ্য মতে, শিশুদের ওপর নির্যাতনকারীরা শুধু একটি পরিবার নয়, বরং পুরো সমাজের মানবতা, নৈতিকতা ও বিবেককে ক্ষতবিক্ষত করছে।
প্রিয় নবী হযরত Muhammad ﷺ–এর একটি হাদীস উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল, এবং প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।” তিনি বলেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সমাজ ও পরিবারের সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে।
তিনি শিশু নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসানের দাবি জানান। পাশাপাশি নারী ও শিশু নিরাপত্তায় কঠোর রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মানবাধিকার কর্মী হিসেবে শায়খ ক্বারী মোহাম্মদ শরীফ আহমদ বলেন, মানবাধিকার শুধু বক্তব্যের বিষয় নয়; বরং দুর্বল, অসহায় ও নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নামই মানবাধিকার। একটি শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে তিনি মানবতার অন্যতম বড় দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিবৃতির শেষাংশে তিনি সরকারের প্রতি দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান এবং বলেন, এমন দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো অপরাধী এ ধরনের জঘন্য অপরাধ করার সাহস না পায়।
তিনি দেশ ও জাতির শান্তি কামনা করে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন এবং নিহত শিশুদের জান্নাতুল ফেরদৌস দান ও তাদের পরিবারকে ধৈর্য ধারণের তাওফিক কামনা করেন।


